ভোটের দিন ঘনিয়ে এলেই সাধারণ ভোটারদের মধ্যে একটা চিরাচরিত দৌড়ঝাঁপ দেখা যায়— ‘আমার ভোটকেন্দ্র কোনটা?’ কিংবা ‘ভোটার তালিকায় আমার নম্বর কত?’ এই চিরচেনা ভোগান্তি কমাতে এবার কোমড় বেঁধে মাঠে নেমেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে অনুষ্ঠেয় গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটারদের তথ্য প্রাপ্তি সহজ করতে চারটি আধুনিক ও সহজলভ্য পদ্ধতির ঘোষণা দিয়েছে কমিশন।
শনিবার বিকেলে ইসির জনসংযোগ অধিশাখা থেকে পাঠানো এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রযুক্তির এই যুগে ভোটারদের আর কেন্দ্রে গিয়ে তালিকায় নিজের নাম খুঁজতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না। এখন পকেটে থাকা স্মার্টফোন কিংবা সাধারণ একটি এসএমএসের মাধ্যমেই কয়েক সেকেন্ডে জেনে নেওয়া যাবে প্রয়োজনীয় সব তথ্য।
সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে কমিশন পরিচয় করিয়ে দিয়েছে ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপটিকে। স্মার্টফোনের প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে এটি ইনস্টল করে ভোটাররা সহজেই তাদের এনআইডি (NID) নম্বর এবং জন্ম তারিখ ব্যবহার করে নিজের প্রোফাইল দেখতে পারবেন। অ্যাপটির বিশেষত্ব হলো, এটি কেবল কেন্দ্রের নামই বলবে না, বরং গুগল ম্যাপের সহায়তায় আপনার অবস্থান থেকে কেন্দ্রের দূরত্ব এবং যাওয়ার সঠিক পথও বাতলে দেবে। এছাড়া ওই আসনে কোন কোন প্রার্থী লড়ছেন, তাদের পরিচিতিও দেখা যাবে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।
যাদের স্মার্টফোন নেই বা ইন্টারনেট ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না, তাদের জন্য রয়েছে ইসির ডেডিকেটেড হটলাইন ১০৫। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত যেকোনো অপারেটর থেকে এই নম্বরে কল করে কথা বলা যাবে সরাসরি অপারেটরের সঙ্গে। নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরটি হাতে রেখে কল করলেই সেখান থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে ভোটার সিরিয়াল ও ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা।
এছাড়া মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশন ব্যবহার করেও তথ্য জানার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফোনের মেসেজ বক্সে গিয়ে বড় হাতের অক্ষরে PC <স্পেস> এনআইডি নম্বর লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে ১০৫ নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে আপনার ভোটার এলাকা, কেন্দ্রের নাম এবং ভোটার নম্বরটি চলে আসবে।
সবশেষে, যারা কম্পিউটারে কাজ করতে পছন্দ করেন তারা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ecs.gov.bd এ গিয়ে ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভিড় এড়াতে এবং দ্রুত নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এই তথ্যগুলো আগেভাগেই সংগ্রহ করে রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, ডিজিটাল এই সেবাগুলো সাধারণ ভোটারদের মাঝে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং ভোটের দিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনবে।

