ভোটের মাঠের লড়াই এবার আদালত প্রাঙ্গণে আরও প্রবল হয়ে উঠল। ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বহাল রাখার হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছেন তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগ তুলে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।
শনিবার বিকেলে নাহিদ ইসলামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাইকোর্টের দেওয়া রিট খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে আজই আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। আগামীকাল রোববার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে এই স্পর্শকাতর আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুরো ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের শুরুর দিকে। ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপি প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম তার দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য হলফনামায় গোপন করেছেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন নাহিদ। তবে ৩ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রাথমিক শুনানি শেষে রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন। এতে কাইয়ুমের নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থাকা নিশ্চিত হয়।
হাইকোর্টের সেই আদেশকে মেনে না নিয়ে এবার সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলেন নাহিদ ইসলাম। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য। নাহিদের আইনজীবীদের দাবি, তাদের কাছে কাইয়ুমের বিদেশি নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ রয়েছে, যা হাইকোর্ট শুনানিতে যথাযথভাবে আমলে নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে ড. এম এ কাইয়ুমের পক্ষে শুনানি করা আইনজীবীরা বরাবরই দাবি করে আসছেন, তাদের প্রার্থীর সব তথ্য বৈধ এবং আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। বিএনপির এই প্রার্থীর মনোনয়ন বজায় থাকায় মাঠের লড়াই যখন জমে উঠেছে, তখনই আপিল বিভাগের এই নতুন আবেদন রাজধানীর এই আসনটিতে এক নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ঢাকা-১১ আসনে এবার বেশ কয়েকজন শক্তিশালী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ১১ দলীয় জোটের নেতা নাহিদ ইসলাম ও বিএনপির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুমের মধ্যে এই ব্যক্তিগত ও আইনি সংঘাত আসনটিকে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। আগামীকালকের শুনানিতে আপিল বিভাগ কী সিদ্ধান্ত দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে ভোটের সমীকরণ। নির্বাচনী আমেজের মাঝেও এখন সবার চোখ আদালতের রায়ের দিকে।

