আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ কেন্দ্রিক গণভোটের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নির্বাচনের দিন এবং এর পরবর্তী সময়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের নেওয়া বহুমুখী প্রস্তুতির বিস্তারিত চিত্র রাষ্ট্রদূতের সামনে তুলে ধরা হয়।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে ভোটারদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় ও কৌশলগত প্রস্তুতির বিষয়ে উপদেষ্টা তাকে অবহিত করেন। সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এসব প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে পেরে রাষ্ট্রদূত সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নির্বাচনী প্রস্তুতির প্রশংসা ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা অপতৎপরতা রুখতে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনসহ এক সমন্বিত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন এই ব্যাপক প্রস্তুতির সাধুবাদ জানান এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
নিরাপত্তা আলোচনার পাশাপাশি এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে স্থান পায়। দুই দেশের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের পারস্পরিক বিনিময় এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।
কূটনৈতিক গুরুত্ব ও আগামীর প্রত্যাশা
গত ১২ জানুয়ারি ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ধারাবাহিকভাবে সরকারের নীতিনির্ধারক ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করছেন। ২৮ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে বৈঠকের পর এবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র বারবার একটি ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের প্রত্যাশা করে আসছে। আজকের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে মার্কিন নাগরিকদের জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে ‘নিরাপত্তা সতর্কতা’ জারির প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে এই বৈঠকটি জনমনে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে, তখন সরকারের শীর্ষ মহলের এই ধরণের কূটনৈতিক তৎপরতা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

