আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিতের পর নতুন তফসিল নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা পরিষ্কার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার নির্বাচন কমিশনার মো. আবদুর রহমান মাছউদ জানিয়েছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) বিধি অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আগে এই আসনে পুনরায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কোনো আইনি সুযোগ নেই।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সম্প্রতি এই আসনের একজন বৈধ প্রার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে সৃষ্ট আইনি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইসি এই অবস্থান গ্রহণ করল। মূলত আরপিও-এর ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা স্থগিত করার বিধান রয়েছে।
প্রার্থীর মৃত্যু ও নির্বাচনী স্থবিরতা
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের আকস্মিক মৃত্যুতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কমিশনার মাছউদ স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান নির্বাচনী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ হবে, তাই কারিগরি ও আইনি কারণেই শেরপুর-৩ আসনের জন্য এর আগে নতুন কোনো শিডিউল দেওয়া সম্ভব নয়।
তবে ১২ ফেব্রুয়ারির পর কমিশন আলোচনা সাপেক্ষে এই আসনের জন্য পুনরায় নতুন সময়সূচী ঘোষণা করবে। তখন নতুন প্রার্থীরাও আবেদন করার সুযোগ পাবেন এবং আগের বৈধ প্রার্থীদের প্রার্থিতা বহাল থাকবে। কমিশনের এই বক্তব্যে শেরপুরের স্থানীয় ভোটার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে থাকা অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়েছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘন ও কঠোর হুঁশিয়ারি
নির্বাচন কমিশনার মাছউদ কেবল শেরপুর-৩ আসন নিয়েই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী শৃঙ্খলা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে সারাদেশে ম্যাজিস্ট্রেটরা তৎপর রয়েছেন এবং যেকোনো ধরণের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা সরাসরি ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’র কাছে অভিযোগ করতে পারবেন।
বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাথে প্রার্থীরা যাতে শোভন আচরণ করেন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা-১৭ আসনের এক প্রার্থীর সেনাবাহিনীর সাথে করা ‘অপেশাদার’ আচরণের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সুষ্ঠু পরিবেশের আশা ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে কমিশনার বলেন, এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি কোনো নির্বাচন কর্মকর্তা পক্ষপাতিত্ব করেন বা আইনের ব্যত্যয় ঘটান, তবে তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দেওয়া যাবে। গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে ইসি সরাসরি হস্তক্ষেপ করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সবশেষে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান যাতে তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটগ্রহণকে সফল করতে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখে। শেরপুর-৩ আসনের ভোটারদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দেওয়া হবে।

