সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান অবশেষে পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, তিনি দেশে থেকে নয়, বরং সুদূর কানাডা থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে এই পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তর ও আইন মন্ত্রণালয়ে তার এই পদত্যাগপত্রটি এসে পৌঁছায়। তার পারিবারিক সূত্র পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিচারপতি মামনুন রহমান দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারিক কাজের বাইরে ছিলেন এবং বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী সংবাদমাধ্যমকে জানান, পদত্যাগপত্রটি ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি মামনুন রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত করছিল সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল। তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতিকে একটি প্রতিবেদনও পাঠিয়েছিল কাউন্সিল। উল্লেখ্য, সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের তদন্তের ভিত্তিতে এর আগে হাইকোর্ট বিভাগের আরও তিনজন বিচারপতিকে অপসারণ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিচার বিভাগে বড় ধরণের রদবদল শুরু হয়। সে সময় হাইকোর্ট বিভাগের ১২ জন বিচারপতিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৯ জন এখন আর দায়িত্বে নেই—যাদের কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন, কেউ অবসরে গেছেন, আবার কাউকে কাউন্সিল তদন্তের পর বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে। বাকি তিনজন পদে বহাল থাকলেও কোনো বেঞ্চ বা বিচারিক কাজের দায়িত্ব পাননি।
বিচারপতি মামনুন রহমান ছুটিতে পাঠানো ওই ১৩ বিচারপতির তালিকায় না থাকলেও, তিনি গত এক বছর ধরে স্বেচ্ছায় কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চলমান অস্থিরতা ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হলো। বর্তমানে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলে আরও বেশ কয়েকজন বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলছে।

