রাজধানীর মিরপুর সংলগ্ন পল্লবী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী মো. আলালকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘শুটার আলাল’ হিসেবে কুখ্যাত এই সন্ত্রাসীর কাছ থেকে একটি উন্নত মানের বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পল্লবী থানা কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পল্লবীর সেকশন ১১-এর তালতলা বস্তি এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এসআই সালাউদ্দিন আল মামুন এবং তার বিশেষ টিম তালতলা বস্তির একটি ভাড়া বাসায় হানা দেয়। সেখানেই আত্মগোপন করে ছিল এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী।
অভিযান চলাকালীন পুলিশ ওই বাসার একটি ওয়ারড্রব থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ৭.৬ এমএম মডেলের পিস্তলটি উদ্ধার করে। সাথে থাকা ম্যাগাজিন ও গুলিগুলোও জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলাল ওই অস্ত্র দিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃত আলালের বিরুদ্ধে থানায় পূর্ব থেকেই অন্তত সাতটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে একটি পুলিশ অ্যাসল্ট (পুলিশের ওপর হামলা), দুটি ডাকাতির প্রস্তুতি, দুটি মাদক মামলা এবং দুটি গুরুতর মারামারির মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিনের পলাতক এই আসামিকে গ্রেপ্তারে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, ‘শুটার আলাল’ দীর্ঘ দিন ধরে মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং কন্ট্রাক্ট শুটিংয়ের মতো অপরাধে জড়িত ছিল। তার এই গ্রেপ্তারের ফলে এলাকার জনমনে যেমন শান্তি ফিরেছে, তেমনি অপরাপর অপরাধী চক্রের কাছেও একটি কড়া বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। রোববার বিকেলেই তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনী পরিবেশ এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঢাকা জুড়ে যে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে, এটি তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর বস্তি এলাকাগুলোতে অপরাধীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে প্রশাসন এখন অত্যন্ত সক্রিয়। পল্লবী থানার ওসি জানিয়েছেন, অস্ত্রের উৎস এবং আলালের অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মিরপুরের এই ব্যস্ততম এলাকায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ টহল আরও বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে লক্ষ্যে অপরাধী ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তল্লাশি এবং অভিযান আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার করা হবে।

