রাজধানীর পল্লবীতে দুর্ধর্ষ এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় মুহাম্মদ হোসেন দীপু (৪৬) নামের এক মুদি দোকানদার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরবেলা যখন নগরী সবেমাত্র জেগে উঠছে, তখনই ১২ নম্বর সেকশনের ৫ নম্বর রোডে এই ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা দীপুকে গুলি করে তাঁর কাছে থাকা নগদ ১৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
আহত দীপুর স্বজনরা জানান, প্রতিদিনের মতো ভোরের আলো ফোটার আগেই তিনি বাসার নিচে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি মোটরসাইকেলে করে তিন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত এসে তাঁর পথরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক ছিনতাইকারী তাঁর বাঁ পায়ের হাঁটুর ওপরে গুলি চালিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় দীপু লুটিয়ে পড়লে তাঁর পকেটে থাকা ১৭ হাজার টাকা নিয়ে দ্রুত এলাকা ছাড়ে ওই চক্রটি।
রক্তাক্ত অবস্থায় দীপুকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সকাল পৌনে ৯টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর পা থেকে গুলি বের করার প্রক্রিয়া চলছে এবং তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।
আহত ব্যক্তির স্ত্রী আফরোজা বেগম বলেন, “ভোরে দোকান খোলার প্রস্তুতির সময় এই হামলা হয়। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মুখোশ পরা থাকায় আমরা কাউকে চিনতে পারিনি।” প্রকাশ্য রাজপথে এমন গোলাগুলি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এই ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই তৎপরতা শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে আমরা ইতোমধ্যে ঢাকা মেডিকেলে একটি টিম পাঠিয়েছি এবং ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহের জন্য আরও একটি টিম কাজ করছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যখন ব্যাপক আলোচনা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ভোরের এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, সংঘবদ্ধ কোনো ছিনতাইকারী চক্র ভোরে কর্মস্থলে যাওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।

