আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই বা যেকোনো ধরনের ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভোটের দিন কোনো কেন্দ্র থেকে যদি ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়, তবে ওই কেন্দ্রের পোলিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যই রক্ষা পাবেন না।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভার আয়োজন করা হয়।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে ঘিরে আমরা সব বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। নির্বাচনটা যেন উৎসবমুখর হয় এবং সবাই যেন নির্ভয়ে নিজের ভোট দিতে পারেন। ব্যালট বক্স ছিনতাই বা ভোট চুরির কোনো অপচেষ্টা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপরও দায় বর্তাবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এবারের নির্বাচনে কোনো ধরনের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি সহ্য করা হবে না। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা সরকারি কর্মচারী হিসেবে কাজ করবেন, কোনো বিশেষ দলের হয়ে নয়। কাউকে ‘তেল দেওয়ার’ প্রয়োজন নেই। যারা নিরপেক্ষতার বাইরে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শেরপুরের সাম্প্রতিক সহিংসতা ও জামায়াত নেতা নিহতের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে রাজনৈতিক উসকানি বা ‘ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি’ থামানো পুলিশের জন্য অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তা সত্ত্বেও এবারের নির্বাচন বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।
এবারের নির্বাচনে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নে মেডিকেল টিম এবং অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের দিন কোনো শঙ্কার কারণে এমন ব্যবস্থা কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সব সময় রেডি থাকে। অনেক বয়স্ক ভোটার অন্যের কোলে চড়ে বা হুইল চেয়ারে ভোট দিতে আসেন। তাদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।”
এদিন সভায় নির্বাচন কমিশন, পুলিশ সদর দপ্তর এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনের দিন নাশকতা এড়াতে ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তত ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের চূড়ান্ত রূপরেখাও পর্যালোচনা করা হয় এই সভায়।
