বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের দিল্লিতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলাদেশে এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি যেখানে বিদেশি কূটনীতিক বা তাদের পরিবারের সদস্যরা অনিরাপদ বোধ করতে পারেন।
ভারতীয় মিশনের এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ তাদের ‘নিজস্ব বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করলেও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “তারা কেন এটি করছেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ আমার কাছে নেই। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় তাদের কর্মকর্তা বা পরিবারের সদস্যরা বিপদে আছেন—এমন একটি উদাহরণও এখন পর্যন্ত নেই।”
সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশে তাদের কূটনৈতিক মিশনগুলোকে ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং হিসেবে ঘোষণা করেছে, যার ফলে কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা ঢাকা ছেড়েছেন। এই পদক্ষেপে কোনো বিশেষ সংকেত বা নিরাপত্তার শঙ্কা আছে কি না, এমন প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমি কোনো শঙ্কা দেখছি না। তারা হয়তো কোনো বিশেষ বার্তা দিতে চাইছেন, কিন্তু সেই বার্তার সঠিক কোনো ভিত্তি আমি খুঁজে পাচ্ছি না।”
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মীদের পরিবার সরিয়ে নিতেই পারে, এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়ার অবকাশ নেই। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অতীতে নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে যে ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা বা বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ দেখা যেত, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়ে মোটেও খারাপ নয়।
কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, ভারত হয়তো নিরাপত্তা ইস্যুতে ঢাকাকে আনুষ্ঠানিক কোনো উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তবে তৌহিদ হোসেন এই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, “তারা বিপদে আছেন বা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা চিন্তিত—এ জাতীয় কোনো কথা ভারতীয় পক্ষ থেকে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে ভারতের এমন সিদ্ধান্ত এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হতে পারে। তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার আজকের বক্তব্য পরিষ্কার করে দিল যে, সরকার বিষয়টিকে যতটা না নিরাপত্তার প্রশ্ন, তার চেয়ে বেশি ভারতের নিজস্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে, ঢাকা বর্তমানে বিদেশি কূটনীতিকদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিতে আত্মবিশ্বাসী। তৌহিদ হোসেনের ভাষায়, ভয় বা আশঙ্কার কোনো কারণ যদি দিল্লিতে থেকে থাকে, তবে তার বাস্তবতা বাংলাদেশের মাটিতে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

