প্রশাসনিক স্তরে স্থবিরতা কাটাতে বড় ধরনের পদোন্নতি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার ১১৮ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত সচিব করা হয়েছে। পদোন্নতি পাওয়া এই কর্মকর্তাদের সবাই বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের সদস্য।
পদোন্নতির এই আদেশ জারির পর থেকে সচিবালয়সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আনন্দ ও হতাশার মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০তম ব্যাচের একটি বড় অংশ পদোন্নতি পেলেও, তালিকায় নাম না থাকায় অনেক দক্ষ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, যোগ্যতার মাপকাঠিতে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও অনেককে অজ্ঞাত কারণে আবারও ‘বঞ্চিত’ রাখা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিসিএস ২০তম ব্যাচের মোট ৪০৭ জন কর্মকর্তার মধ্যে থেকে মাত্র ১১৮ জনকে এই পদের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শূন্য পদের সংখ্যা ও কর্মকর্তাদের অতীত কাজের রেকর্ড বিশ্লেষণ করেই এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের দাবি, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অনেক মেধাবী মুখ এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। তাদের সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে যোগদানপত্র দাখিল করতে বলা হয়েছে। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে যদি কেউ ইতিমধ্যে কর্মস্থল পরিবর্তন করে থাকেন, তবে তাদের বর্তমান দপ্তরের নাম উল্লেখ করে যোগদানপত্র দিতে হবে।
সরকারের এই আদেশে একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যদি পদোন্নতি পাওয়া কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো নেতিবাচক বা ভিন্নধর্মী তথ্য পাওয়া যায়, তবে কর্তৃপক্ষ এই আদেশ সংশোধন বা সম্পূর্ণ বাতিল করার অধিকার সংরক্ষণ করবে। মূলত বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতেই এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ ১৯ মাস পর ২০তম ব্যাচকে এই পদোন্নতি দেওয়া হলো। এর আগে ১৮তম ব্যাচকে অতিরিক্ত সচিব করা হয়েছিল ২০২৩ সালের মে মাসে। এরপর দীর্ঘ সময় পদোন্নতি ঝুলে থাকায় প্রশাসনে এক ধরণের চেইন-অব-কমান্ডের শিথিলতা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে নতুন এই ১১৮ জনকে নিয়ে দেশে অতিরিক্ত সচিবের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৩ জনে, যদিও এই পদের স্থায়ী সংখ্যা মাত্র ২১২টি।
স্থায়ী পদের তুলনায় কর্মকর্তা বেশি হওয়ায় পদোন্নতি পাওয়া অধিকাংশ কর্মকর্তাকে আগের কর্মস্থলেই (ইন-সিটু) কাজ চালিয়ে যেতে হতে পারে বলে জানা গেছে। এদিকে, যারা এবারও বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের তালিকা নিয়ে পুনরায় পর্যালোচনার দাবি তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন, দ্রুত এই অসন্তোষ দূর না হলে প্রশাসনের কর্মস্পৃহায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

