চলমান রাজনৈতিক উত্তাপ আর প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে এক প্রকার স্বস্তির কথা শোনালেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তার মতে, অতীতের অনেক নির্বাচনের তুলনায় এবারের মাঠের চিত্র ‘অত্যন্ত চমৎকার’। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে নানা শঙ্কার কথা বলা হলেও কমিশন তেমন কোনো ভীতি অনুভব করছে না বলে জানান তিনি। ইসি আনোয়ারুল বলেন, “মাঠ পর্যায়ে আমাদের পরিদর্শনে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে আসা খবর অনুযায়ী প্রচারণার পরিবেশ সন্তোষজনক। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।”
নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি একটি কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা কোনোভাবেই কোনো বিশেষ দলের বা প্রার্থীর পক্ষ নিতে পারবেন না। এমনকি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি যে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেখানেও তাদের ভূমিকা থাকতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। তাদের কাজ হবে কেবল জনগণকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করা, প্রচারণায় অংশ নেওয়া নয়।
মাঠের সহিংসতা ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে এই কমিশনার জানান, ছোট-বড় সব দলের অভিযোগই কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কেবল পুলিশ বা আনসার নয়, এবার সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড এমনকি বিএনসিসি-কেও যুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, গত ৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে। এই সময়ে সারা দেশে ১২৮টি এলাকায় ১৪৪টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে ৯৪টি মামলা দায়ের এবং মোট ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ইসি মনে করে, এবার প্রার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া ‘অঙ্গীকারনামা’ নির্বাচনী পরিবেশকে অনেক বেশি সুশৃঙ্খল করেছে।
ভোটের ফল ঘোষণার বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি জানান, যেহেতু সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই সাথে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই ফল প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। তবে অধিকাংশ আসনের ফলাফল ভোটের দিন মধ্যরাত বা পরদিন শেষ রাতের মধ্যেই পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে কমিশনার বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি লাগানো সম্ভব হয়েছে তার তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। পুরো প্রস্তুতি শেষ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলেও তিনি পুনরায় ব্যক্ত করেন।

