আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। এই বিশাল গণতান্ত্রিক যজ্ঞ সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকার হোটেল ওয়েস্টিনে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এবারের নির্বাচনে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৯৯৪ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা ২৫৬ জন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ করা হবে।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে বিশাল এই বাহিনী মাঠে থাকবে। মোট সদস্য: ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০ জন। প্রযুক্তির ব্যবহার: নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। কেন্দ্রের নিরাপত্তা: গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে ২৫ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি স্থাপন করা হবে।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা সরাসরি নিয়োগ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা: ৬৯ জন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা: ৫৯৮ জন। প্রিজাইডিং অফিসার: ৪২ হাজার ৭৭৯ জন। মোট ভোটার: ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বিশ্ববাসীর ব্যাপক আগ্রহের প্রেক্ষিতে এবার রেকর্ড সংখ্যক পর্যবেক্ষক আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক: প্রায় ৫০০ জন (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ২০০ জন এবং কমনওয়েলথের ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ দল)। দেশি পর্যবেক্ষক: ৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন।
ব্রিফিং শেষে নির্বাচন কমিশনার কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো ধরনের ‘ভোট কেনাবেচা’ বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এবারের নির্বাচন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ডিজিটাল মনিটরিং সমৃদ্ধ একটি মডেল নির্বাচন হবে বলে ইসি আশা প্রকাশ করেছে।

