মাদারীপুরের নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) এহতেশামুল হক মন্তব্য করেছেন যে, তুলনামূলকভাবে যে অফিস যত ছোট, সেখানে দুর্নীতির মাত্রা তত কম থাকে; এবং যে বাহিনী যত বড় ও অফিস যত বৃহৎ, সেখানে দুর্নীতির পরিমাণ তত বেশি হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
রবিবার (৩০ নভেম্বর ২০২৫) বিকেলে মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। এর আগে জেলা পুলিশের সকল অফিসার ও ফোর্সের পক্ষ থেকে নবাগত পুলিশ সুপারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক, তার বক্তব্যে দুর্নীতির একটি উদাহরণ তুলে ধরে বলেন: “আমাদের এখানে পুলিশের সদস্য আছে এক হাজারের বেশি। সেই হিসাবে সবাই যদি ৫ টাকা করে দুর্নীতি করে, তাহলে এক হাজার জন দুর্নীতি করলো। আর একটা অফিস অনেক ছোট, যার সদস্যই ৩ জন, তারা আর দুর্নীতি করবে কী! ৫ টাকা করে তিনজন ১৫ টাকা দুর্নীতি করবে। খুব বেশি করার ক্যাপাসিটি তাদের নেই।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ছোট ছোট দুর্নীতিও কীভাবে সমষ্টিগতভাবে বড় আকার ধারণ করতে পারে, সেই দিকটি তুলে ধরেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে পুলিশ সুপার বলেন, “এই জেলায় সুবিধা-অসুবিধা বুকে ধারণা করেই কাজ করতে হবে। আমাদের তো পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনাদের জেলায় আমরা বাইরে থেকে এসেছি। এই জেলাকে কিভাবে আরও সুন্দর, উন্নত, সুশৃঙ্খল ও দুর্নীতিমুক্ত করা যায়, এ বিষয়ে সাহায্য করবেন।” এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মাদক, জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ ও সাংবাদিক একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জেলা বিশেষ শাখা) শেখ সাব্বির হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন, সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন, এবং ডিআই-১ আশফাক হোসেন।
প্রসঙ্গত, নবাগত পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেখান থেকে বদলি হয়ে মাদারীপুরে এসেছেন।
