রাজধানীর প্রবেশদ্বার আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক সংলগ্ন ফ্লাইওভারের নিচের অংশে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকেই ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে এই এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন।
ফ্লাইওভারের নিচের অংশগুলোতে সাধারণত ধুলোবালি ও ময়লা জমে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এই সমস্যা সমাধানে ডিএনসিসির প্রধান কার্যালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় আজ আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মী রফিকুল ইসলাম জানান, নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই আজ তারা ফ্লাইওভারের নিচের জমে থাকা আবর্জনা ও বালু অপসারণ করছেন যাতে পথচারী ও যানবাহনের চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, কেবল সড়ক পরিষ্কার নয়, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নগরের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে খাল ও জলাশয়গুলোর দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে উত্তর সিটির আওতাধীন ২৯টি খাল এবং একটি রেগুলেটিং পন্ডের বর্জ্য অপসারণে ৩৬০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত করা হয়েছে।
খালের সীমানা নির্ধারণ ও দখলমুক্ত রাখতে ইতোমধ্যে ১৩০০টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিটি খালের জিআইএস ডাটাবেজ এবং হটস্পট ম্যাপও প্রস্তুত করেছে সংস্থাটি। এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ নিশ্চিতে সিটি কর্পোরেশনের ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে পাম্প স্টেশনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও কাজ চলছে। রামপুরা পাম্পিং স্টেশনে নতুন করে ৫ কিউমেক ক্ষমতার একটি পাম্প যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, কল্যাণপুর পাম্পিং স্টেশনের জন্য ১৬ কিউমেক ক্ষমতার বিশাল একটি পাম্প হাউজ নির্মাণের প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে।
কল্যাণপুর রিটেনশন পন্ডের ধারণক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যে ১.১২ লাখ ঘনমিটার পলি ও মাটি অপসারণ করা হয়েছে। মিরপুর ও আব্দুল্লাহপুরে অবস্থিত ছোট পাম্প স্টেশনগুলোও রক্ষণাবেক্ষণ করে সচল রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো আকস্মিক বৃষ্টিতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়।
ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরকে বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন রাখতে আব্দুল্লাহপুরের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এই ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত থাকবে।

