আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের ৮ জন নেতার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা-০২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়।
ইসি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর-১ সংসদীয় আসন থেকে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মো. মজিবুর রহমান তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর একটি আবেদন জমা দেন। কালিয়াকৈর পৌরসভার সাবেক এই মেয়র এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তার আবেদনে উল্লেখ করেন, নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত তার জন্য উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দাপ্তরিক অনুরোধ জানিয়েছে।
অপর এক চিঠিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের ৭ জন প্রভাবশালী নেতা ও প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের আবেদনের প্রেক্ষিতে কমিশন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
কমিশনের নির্দেশনায় যাদের নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
নির্বাচন কমিশন তার নির্দেশনায় উল্লেখ করেছে যে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের নির্ভয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানোর সুযোগ থাকা অপরিহার্য। প্রার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। চিঠিতে বলা হয়, ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের গতিবিধি এবং নির্বাচনী এলাকায় তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা প্রদানের এই নির্দেশনাটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।

