রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত রিকশা বিক্রয় বন্ধের দাবিতে বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সাধারণ রিকশা চালকরা। আজ সোমবার দুপুরে উত্তর বাড্ডা ও রামপুরা এলাকায় দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে রাখার পর, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে রাজপথ ছেড়েছেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা সাফ জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে সিটি কর্পোরেশন যদি ব্যাটারিচালিত রিকশা আমদানিকারক ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে ১ ফেব্রুয়ারি দুই সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন ঘেরাও করা হবে। আন্দোলনের মুখে কুড়িল-রামপুরা সড়কে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা যান চলাচল স্থবির হয়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই উত্তর বাড্ডা এলাকায় জড়ো হতে থাকেন কয়েক শ’ রিকশা চালক। তাদের মূল অভিযোগ— লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশার দাপটে সাধারণ প্যাডেল চালিত ও সরকার অনুমোদিত রিকশা চালকরা জীবিকা হারাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা সড়কের মাঝখানে অবস্থান নিলে রামপুরা থেকে কুড়িল অভিমুখে আসা-যাওয়া করা শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। এক পর্যায়ে চালকরা উত্তর বাড্ডা থেকে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে রামপুরা ব্রিজের দিকে অগ্রসর হন। মিছিলে অংশ নেওয়া চালকরা স্লোগান দেন যে, প্রশাসন যদি অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার শো-রুমগুলো বন্ধ না করে, তবে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
মিছিল শেষে রামপুরা ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে তারা তাদের আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। আন্দোলনকারীদের একজন প্রতিনিধি বলেন, “আমরা ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে যদি নগর কর্তৃপক্ষ লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত রিকশার বিক্রি বন্ধের নির্দেশ না দেয়, তবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা নগর ভবনের সামনে আমরণ অবস্থান নেব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেখান থেকে সরব না।”
এদিকে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছেড়ে দিলে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকা যানবাহনগুলো পুনরায় চলতে শুরু করে। বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসিরুল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি শেষ করে মিছিল নিয়ে চলে যাওয়ার পর সড়কে যান চলাচল এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই আকস্মিক অবরোধের কারণে মেরুল বাড্ডা, কুড়িল এবং মালিবাগ এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক অফিসগামী মানুষকে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়। দুপুরে রাস্তা পরিষ্কার হওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের তৎপরতায় ট্রাফিক ব্যবস্থা পুনরায় স্থিতিশীল হয়।
রিকশা চালকদের দাবি হলো, অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো দ্রুতগতির হওয়ার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং সাধারণ চালকরা ট্রাফিক পুলিশের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তারা চান, সিটি কর্পোরেশন কেবল অনুমোদিত রিকশাগুলোকেই রাস্তায় চলার অনুমতি দিক এবং ব্যাটারিচালিত যানের সরবরাহ চেইন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হোক।
এখন দেখার বিষয়, ৩০ জানুয়ারির এই আল্টিমেটাম নিয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে ১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে বড় ধরনের জনদুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।

