রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনকে কেন্দ্র করে আজ এক নজিরবিহীন উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যালট পেপার সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ‘ঘেরাও ও অবস্থান’ কর্মসূচির মুখে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো এলাকা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি এবার মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলের দিকে বিজিবির এক বিশেষ বার্তায় জানানো হয় যে, আগারগাঁও এলাকায় নির্বাচন কমিশন ভবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য যে কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে তাদের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ইসি ভবনের প্রতিটি প্রবেশপথে বিজিবি সদস্যরা টহল দিচ্ছেন এবং ব্যারিকেড দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
দিনের শুরু থেকেই উত্তেজনা দানা বাঁধতে থাকে। সকাল ১১টার দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মী নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করতে আসেন। পুলিশের বাধা পেয়ে তারা ভবনের সামনের প্রধান সড়কেই বসে পড়েন। দিন গড়িয়ে বিকেল হলেও নেতাকর্মীদের ভিড় কমেনি, বরং সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে আগারগাঁও।
দুপুরে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাফ জানিয়ে দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। তিনি বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অন্যায্য আবদারের মুখে কমিশন নতি স্বীকার করছে। তাদের হঠকারী সিদ্ধান্তে নির্বাচনের স্বচ্ছতা আজ বড় প্রশ্নের মুখে। এই অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমরা রাতভর অবস্থান চালিয়ে যাব।”
ছাত্রদলের এই অনড় অবস্থান এবং ক্রমাগত লোকসমাগম বাড়তে থাকায় বিকেলের দিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়। নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েন এক ধরনের বিশেষ সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিজিবি মোতায়েনের পর থেকেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের স্লোগান আরও তীব্র হতে দেখা গেছে।
ছাত্রদলের মূল অভিযোগ মূলত তিনটি বিষয়ে—পোস্টাল ব্যালটের গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে কমিশনের বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন এবং একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতি কমিশনের পক্ষপাত। এসব অভিযোগের সরাসরি জবাব ও সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে নারাজ দলটির নেতাকর্মীরা।
এদিকে, বিজিবি মোতায়েনের বিষয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, যেহেতু এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা এবং সামনেই নির্বাচন, তাই যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
নির্বাচন কমিশনের চারপাশের সড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের রাজপথে অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগারগাঁওয়ের এই উত্তেজনা সহজে প্রশমিত হওয়ার নয়।

