বন্দরনগরী চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জলাবদ্ধতা’ নিরসনে এবার সরাসরি নগরবাসীর সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পও ব্যর্থ হবে যদি মানুষ খালে ও নালায় যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ না করে। নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া বাণিজ্যিক রাজধানীকে বাসযোগ্য রাখা অসম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর রসুলবাগ আবাসিক এলাকা সংলগ্ন খালপাড় পরিদর্শনে গিয়ে ডা. শাহাদাত এসব কথা বলেন। খালের বর্তমান অবস্থা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সরজমিনে দেখতে তিনি সেখানে যান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।
মেয়র বলেন, “একসময় এই খালপাড় এলাকায় রাস্তার ওপর খোলা জায়গায় ময়লা ফেলা হতো। এতে কেবল এলাকার সৌন্দর্যই নষ্ট হচ্ছিল না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। ময়লার স্তূপের কারণে এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়ে গিয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের চলাচলে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমরা এখন সেসব স্থানে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও জানান, যেখানে অবৈধভাবে ময়লা ফেলা হচ্ছিল, সেই স্থানগুলো সংস্কার করে পুনরায় সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, খাল হচ্ছে নগরের ফুসফুসের মতো, যা দিয়ে অতিরিক্ত পানি সাগরে নেমে যায়। কিন্তু পলিথিন ও গৃহস্থালির বর্জ্য ফেলে আমরা খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দিচ্ছি। এর ফলেই সামান্য বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।
পরিদর্শনকালে চসিক মেয়র ঘোষণা দেন যে, নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রাখতে খাল ও নালা পরিষ্কারের বিশেষ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। যারা আইন অমান্য করে পরিবেশ দূষণ করবে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে কেবল জরিমানা করে শহর পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে নাগরিকদের সহযোগিতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরের গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন ও খালগুলোতে এখন নিয়মিত ড্রেজিং ও আবর্জনা অপসারণের কাজ চলছে। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নিজে এই কার্যক্রম তদারকি করছেন। চট্টগ্রামকে একটি স্মার্ট ও বাসযোগ্য মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেছেন।

