বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের নির্বাসিত জীবন এবং তার দেশে ফেরা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবস্থান তুলে ধরা হলো।
সোমবার (৫ মে, ২০২৫) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন। ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এই সভার আয়োজন করে, যার মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে একটি প্রাসঙ্গিক ভূমিকা নির্ধারণ’।
সভার এক পর্যায়ে একজন সাংবাদিক তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সরকারের দিক থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বাধা বা বিধিনিষেধ রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে জানতে চান।
উত্তরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন: “বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে কোনো বিধিনিষেধ নেই।”
উল্লেখ্য, তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা। এসব মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালত কর্তৃক ইতিমধ্যে সাজাও প্রদান করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এই বক্তব্যটি তারেক রহমানের রাজনৈতিকভাবে দেশে ফেরার পথে সরকারি বাধার অনুপস্থিতি নির্দেশ করে। তবে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নির্ভর করে মূলত আইনি প্রক্রিয়ার উপর। দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের বাস্তব চিত্র নির্ধারিত হবে। বর্তমানে তিনি একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায়, দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফেরার বিষয়টি আবারও শিরোনামে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে, তারেক রহমানের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আইনি প্রক্রিয়ার গতি-প্রকৃতির দিকে সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকবে।
