বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার প্রত্যয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হন। সফরের শুরুতে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের প্রধান নুরল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে কূটনৈতিক প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে আলোচনার পর তিনি পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, একজন নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে তার কর্মস্থল দেশে কাজ শুরু করার আগে রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করতে হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ও রাষ্ট্রাচার প্রধানের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করবেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। এরপরই তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করার আইনি ও কূটনৈতিক অধিকার লাভ করবেন।
গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছানোর পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বকে আরও গভীর করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। আমি দুই দেশের মধ্যকার অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী।”
দীর্ঘ পেশাদার ক্যারিয়ারের অধিকারী এই কূটনীতিককে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। তাঁর এই নিয়োগকে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাকালে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন মানবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থনের বিষয়টিও এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, ক্রিস্টেনসেনের কার্যকাল দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও বহুমুখী ও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে দুই পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

