আসন্ন ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার লড়াইয়ে বড় জয় পেলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) আরও তিন প্রার্থী। রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ পড়ার পর নির্বাচন কমিশনে (ইসি) করা আপিল শুনানিতে নিজেদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তারা। তবে একই দিনে কমিশনের কঠোর সিদ্ধান্তে নির্বাচনী দৌড় থেকে ছিটকে গেছেন দলটির আরও দুই প্রার্থী, যাদের আপিল আবেদন কমিশন কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানির তৃতীয় দিনে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দিনের কার্যক্রম শেষে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে দলের প্রার্থীদের ভাগ্যের এই উত্থান-পতনের তথ্য নিশ্চিত করেন।
নির্বাচন কমিশনের নিবিড় যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষে আজ জাপার যে তিন নেতা নির্বাচনী মাঠে ফেরার সবুজ সংকেত পেয়েছেন তারা হলেন— টাঙ্গাইল-৬ আসনের প্রার্থী মো. মামুনুর রহিম, জামালপুর-১ আসনের একেএম ফজলুল হক এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের মো. আব্দুর রশিদ। তাদের তথ্যগত ত্রুটি বা আইনি জটিলতা নিরসন হওয়ায় ইসি তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে, কমিশন থেকে শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হয়েছে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের এস এম আবদুল মান্নানকে। তাদের আপিল আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় তারা বর্তমানে সাধারণ প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছেন। তবে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দুই প্রার্থীর অধিকার রক্ষায় তারা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, দলটির পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৫টি আপিল আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে অত্যন্ত সন্তোষজনকভাবে ২১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। বাকি চারজন যাদের আবেদন কমিশন নাকচ করে দিয়েছে, তারা শিগগিরই উচ্চ আদালতে রিট করবেন। মহাসচিব আশা প্রকাশ করেন যে, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তারাও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
উল্লেখ্য যে, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার নির্বাচন কমিশনে সারা দেশ থেকে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছিল। গত ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আপিল গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয় ৯ জানুয়ারি। এর আগে প্রাথমিক বাছাইয়ে সারা দেশে মোট ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
তফসিল অনুযায়ী, ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আপিল নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা, যার পরেই শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনী প্রচারণা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচন কমিশনের এই স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক আপিল শুনানি প্রক্রিয়া ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

