রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার নিলিকে গলা কেটে হত্যার পৈশাচিক ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত হোটেল কর্মচারী মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে এক লোমহর্ষক তথ্য।
অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এবং অভিযুক্তকে বকাঝকা করায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে কিশোরী নিলিকে নির্মমভাবে হত্যা করে মিলন। সোমবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘটনার দিন দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন মল্লিক ভিকটিমের বাসায় প্রবেশ করেন এবং ৫ মিনিট পর নিহতের বড় বোন শোভার সাথে বাসা থেকে বের হন।
তবে বড় বোন জিমে চলে যাওয়ার সুযোগে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে মিলন পুনরায় একা ওই বাসায় প্রবেশ করেন। সেখানে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থানের পর ২টা ৪৫ মিনিটে তাকে বাসা থেকে বের হতে দেখা যায়। প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান নিশ্চিত হয়ে র্যাব-৩ ও র্যাব-৬-এর একটি যৌথ দল বাগেরহাটের সিংগা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক মিলনকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত মিলন মল্লিক হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। সে জানায়, বনশ্রীর একটি হোটেলে কাজ করার সুবাদে নিলির বাসায় খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় থেকেই তাকে উত্ত্যক্ত করত সে। ঘটনার আগের রাতে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে নিলিকে অনৈতিক প্রস্তাব দিলে কিশোরী তাকে কঠোরভাবে বকাঝকা করে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিলন তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। প্রতিশোধ নেওয়ার নেশায় পরদিন সে একটি নাইলনের দড়ি নিয়ে ওই বাসায় পুনরায় হানা দেয়। পুনরায় অনৈতিক প্রস্তাবে নিলি অসম্মতি জানালে মিলন দড়ি দিয়ে তার গলা চেপে ধরে। একপর্যায়ে নিলি চিৎকার শুরু করলে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে রান্নাঘর থেকে বঁটি বা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করে মিলন।
র্যাবের তথ্যমতে, হত্যার পর অপরাধস্থলকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বাসার আসবাবপত্র তছনছ করে কিছু নগদ অর্থ লুট করে পালিয়ে যায় মিলন। গ্রেপ্তারকৃত মিলন মল্লিক একজন পেশাদার মাদকসেবী এবং এর আগেও তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা ছিল। অভিযানকালে মিলনের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় পরিহিত পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র ও নাইলনের দড়ি জব্দ করেছিল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও মদত বা কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত চলছে। ঘাতক মিলনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজধানীর অন্যতম জনবহুল এলাকা বনশ্রীতে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

