অনলাইন প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামে পার্ট-টাইম জব এবং ইনভেস্টমেন্ট টাস্কের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. সোহেল মিয়া (৪১)। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১১ জানুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যেভাবে চলত প্রতারণা: সিআইডি জানায়, এই চক্রটি মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ঘরে বসে আয়ের স্বপ্ন দেখাত। প্রতারণার কৌশলটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত: প্রাথমিক যোগাযোগ: প্রথমে অজ্ঞাত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ভিকটিমকে পার্ট-টাইম চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়।
আস্থা অর্জন: শুরুতে ইউটিউব ভিডিও দেখা বা সাবস্ক্রাইব করার মতো ছোট ‘টাস্ক’ দেওয়া হতো এবং পুরস্কার হিসেবে ১৫০-২১০০ টাকা প্রদান করে ভিকটিমের বিশ্বাস অর্জন করা হতো।
বিনিয়োগের ফাঁদ: বিশ্বাস অর্জনের পর ভিকটিমকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হতো, যেখানে চক্রের অন্যান্য সদস্যরা ভুয়া স্ক্রিনশট দিয়ে দেখাত যে তারা লাখ লাখ টাকা আয় করছে। এরপর বড় লাভের প্রলোভন দিয়ে টাকা ‘বিনিয়োগ’ করতে বলা হতো।
টাকা আত্মসাৎ: ভিকটিম যখন তার বিনিয়োগ করা অর্থ বা লভ্যাংশ তুলতে চাইতেন, তখন তাকে নতুন শর্ত বা ‘ট্যাক্স’ পরিশোধের কথা বলে আরও টাকা চাওয়া হতো। এভাবে ধাপে ধাপে ভিকটিমের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রের শিকার হয়েছেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার। তাকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এই ফাঁদে ফেলা হয়। চক্রটি তার কাছ থেকে ৪টি পৃথক বিকাশ অ্যাকাউন্ট এবং ৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা আত্মসাৎ করেছে। টাকা ফেরত চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি ২০২৫ সালের ২১ মে ডিএমপির লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সিআইডি এই মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটিকে শনাক্ত করে। এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর এই চক্রের মূল হোতা নাদিমকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নাদিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে তার সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই গতকাল সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সোহেল মিয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার অপরাধ স্বীকার করেছেন।
সিআইডি জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে দেশি-বিদেশি আরও অনেক সদস্য জড়িত থাকতে পারে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অনলাইনে এমন লোভনীয় আয়ের বিজ্ঞাপন বা প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার জন্য সাধারণ জনগণকে পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

