আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং প্রস্তাবিত ঐতিহাসিক গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুসংহত করতে জরুরি প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে আগামী রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা আহ্বান করা হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করাই এই সভার মূল লক্ষ্য।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার পক্ষ থেকে এক দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার সকাল ৯টায় নির্ধারিত এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব.)।
অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় এই সভাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত একটি জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই জোড়া কর্মসূচিকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরির পরিকল্পনা করছে ইসি। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম এবং স্ট্রাইকিং ফোর্সের অবস্থান নিয়ে এই সভায় বিস্তারিত কৌশল নির্ধারণ করা হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট যেমন— পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান এবং অপারেশনাল সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে।
কমিশন সচিবালয় থেকে জারিকৃত নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দপ্তর, বিভাগ ও সংস্থাকে তাদের উপযুক্ত প্রতিনিধি বা ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের সভায় উপস্থিত থাকতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ কোনো কৌশল অবলম্বন করা হবে কি না, সে বিষয়েও সভায় আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়গুলো ভোটারদের কাছে স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা এখন ইসির প্রধান চ্যালেঞ্জ।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান শর্ত হলো অংশগ্রহণকারী ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সেই লক্ষ্যেই নজিরবিহীন এই নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। রোববারের এই সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তগুলোই মূলত আগামী এক মাস দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির রূপরেখা নির্ধারণ করবে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন যে বদ্ধপরিকর, এই বিশেষ সমন্বয় সভা তারই একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

