দেশজুড়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতার অবসান ঘটেছে। তিন দফা দাবিতে ডাকা দেশব্যাপী ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেড। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠকের পর আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে দিনভর চলা তীব্র গ্যাস সংকট থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি জানান, ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর কমিশন ও সমিতি একটি ঐকমত্যে পৌঁছেছে। চেয়ারম্যান বলেন, “সমিতি মূলত ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে কমিশন বৃদ্ধির যে দাবি করেছে, সেটির সঙ্গে আমরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছি। অন্যান্য দাবিগুলো নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
উল্লেখ্য, গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে আকস্মিকভাবে সারাদেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি। এর ফলে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এলপি গ্যাসের চরম সংকট দেখা দেয়। খুচরা দোকানে সিলিন্ডার না পেয়ে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েন, অনেক জায়গায় অতিরিক্ত মূল্যে গ্যাস বিক্রির অভিযোগও ওঠে। রান্নাবান্নার কাজে বিঘ্ন ঘটায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। দাবিগুলো হলো: সারাদেশে এলপিজি বিক্রয় কেন্দ্রে প্রশাসনের চলমান অভিযান ও হয়রানি বন্ধ করা। বিতরণকারী (ডিলার) ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য নির্ধারিত লাভাংশ বা চার্জ বৃদ্ধি করা। কোম্পানি পর্যায় থেকে সিলিন্ডারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।
ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ও আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধির ফলে বর্তমান নির্ধারিত লাভাংশে ব্যবসা পরিচালনা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। আজকের বৈঠকে বিইআরসি কর্তৃপক্ষ কমিশন বৃদ্ধির আশ্বাস দেওয়ায় তারা আপাতত ধর্মঘট স্থগিত করে পুনরায় সরবরাহ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, আজকের মধ্যেই দেশের সব ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ রাত থেকেই গ্রাহকরা খুচরা বাজারে আগের মতো গ্যাস পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। বিইআরসি চেয়ারম্যানও আশ্বস্ত করেছেন যে, জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা বাজার তদারকির পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবেন।

