বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত এবং সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করার লক্ষ্যে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) ঢাকা সেনানিবাসস্থ সেনাসদরে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে উভয় দেশের সামরিক কূটনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাইকমিশনার সুসান রাইল সেনাসদরে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সাক্ষাতের শুরুতে তারা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। আলোচনায় হাইকমিশনার সুসান রাইল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে তাদের অনবদ্য ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিকায়নে কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা প্রদানের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা এবং উন্নত সামরিক প্রশিক্ষণে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর তিনি জোর দেন।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অস্ট্রেলিয়ার এই সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটে সামরিক কূটনীতি এবং যৌথ অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেনাপ্রধান ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে যৌথ সামরিক অনুশীলন (Joint Exercise) এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ কেবল সামরিক সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুই দেশের কৌশলগত অবস্থানকেও শক্তিশালী করবে।
বৈঠকে দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সফর বিনিময় এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সামরিক বাহিনীর পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়। হাইকমিশনার সুসান রাইল আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তার এই সফরের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের এই প্রতিশ্রুতি দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ বন্ধনকে ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় করবে বলে উভয় পক্ষই একমত পোষণ করেন।

