দেশের সর্বোচ্চ আদালত সম্পর্কে জনমনে যেন কোনো ভুল ধারণার সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, উচ্চ আদালতের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন যেকোনো খবর প্রচার করা আদালত অবমাননার শামিল। ভবিষ্যতে যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তার বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের মিডিয়া ফোকাল পারসন অথবা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে তথ্য যাচাই করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমের টিভি স্ক্রল এবং অনলাইন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের প্রতিবাদে আপিল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এবং বেঞ্চ না দেওয়ায় হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি ছুটিতে গিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এই তথ্যকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছে।
প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে: বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম: আপিল বিভাগের এই জ্যেষ্ঠ বিচারপতি তার মায়ের অসুস্থতার কারণে পারিবারিক কারণে ছুটি গ্রহণ করেছেন। এর সাথে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ বা অন্য কোনো প্রশাসনিক বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
বিচারপতি ফরিদ আহমেদ: হাইকোর্ট বিভাগের এই বিচারপতি বর্তমানে অসুস্থজনিত কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি সাময়িকভাবে বিচারিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন মনে করে, সংবাদ পরিবেশনের আগে সঠিক উৎস থেকে তথ্য যাচাই না করায় এ ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত নিয়ে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এর মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। তাই ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টের কোনো সিদ্ধান্ত বা বিচারপতির ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

