সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্ধারিত সময়ে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। যারা এই নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করবে, তারা সফল হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনে যে-কোনো স্থানে প্রবেশ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের আগে ও পরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সকল বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, “গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর মূল উদ্দেশ্য হলো অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা এবং সংঘাতের কোনো আশঙ্কা থাকলে তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় ও তৎপর থাকতে বলা হয়েছে।”
বৈঠকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনী প্রশিক্ষণের কার্যক্রম বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই সকল বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।
নির্বাচন বা আন্দোলনের নামে রাস্তাঘাট অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আন্দোলনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে; রাস্তা আটকে ভোগান্তি সৃষ্টি করা যাবে না।”
এবারের নির্বাচনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বড় ধরনের বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। সূত্রমতে, নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১ লাখ সদস্য, বিজিবির ৩৩ হাজার সদস্য এবং আনসারের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও র্যাব ও পুলিশ বাহিনী মাঠপর্যায়ে নিয়মিত টহল দেবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পূর্ববর্তী বিতর্কিত নির্বাচনগুলোতে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হবে যাতে জনমনে কোনো সংশয় না থাকে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “সকলের সহযোগিতায় আমরা একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার মতো কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।”

