সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রবেশের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। এসময় তিনি মনোনয়নপত্রের বৈধতা ও বাতিলের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের আপিল গ্রহণের জন্য স্থাপিত বিশেষ বুথগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত নির্বাচনের যে পরিবেশ বিরাজ করছে, তা অত্যন্ত সন্তোষজনক। আমরা একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি এবং আশা করি সবার অংশগ্রহণে এটি একটি সফল নির্বাচন হবে।”
তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে কিংবা যারা অন্য কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ, তারা আজ ৫ জানুয়ারি থেকে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।
ইসি সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই আবেদন গ্রহণ করা হবে। কোনো প্রার্থী, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের দাবির সপক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য ও দলিলাদি নিয়ে কমিশন বরাবর আইনি প্রতিকার চাইতে পারবেন।
আবেদন প্রক্রিয়া সহজতর এবং সুশৃঙ্খল করতে নির্বাচন কমিশন পুরো দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করেছে। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য আলাদা বুথ স্থাপন করা হয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক বুথগুলোর বিন্যাস নিচে তুলে ধরা হলো:
রংপুর অঞ্চল: বুথ-১ (আসন ১–৩৩), রাজশাহী অঞ্চল: বুথ-২ (আসন ৩৪–৭২), খুলনা অঞ্চল: বুথ-৩ (আসন ৭৩–১০৮), বরিশাল অঞ্চল: বুথ-৪ (আসন ১০৯–১২৯), ময়মনসিংহ অঞ্চল: বুথ-৫ (আসন ১৩০–১৬৭), ঢাকা অঞ্চল: বুথ-৬ (আসন ১৬৮–২০৮), ফরিদপুর অঞ্চল: বুথ-৭ (আসন ২০৯–২২৩), সিলেট অঞ্চল: বুথ-৮ (আসন ২২৪–২৪২), কুমিল্লা অঞ্চল: বুথ-৯ (আসন ২৪৩–২৭৭), চট্টগ্রাম অঞ্চল: বুথ-১০ (আসন ২৭৮–৩০০)।
আপিল আবেদনের জন্য প্রার্থীদের এক সেট মূল কাগজপত্র এবং মেমোরেন্ডাম আকারে ছয় সেট ফটোকপি জমা দিতে হবে। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিল আবেদনের ওপর পর্যায়ক্রমে শুনানি শুরু হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে কমিশন এই শুনানি পরিচালনা করবেন। ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে বলে জানানো হয়েছে। শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা বা তার প্রতিনিধি এবং আপিলকারী প্রার্থীকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ উপস্থিত থাকতে হবে।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের অংশ হিসেবে এবার শুনানির ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে মনিটরে প্রদর্শন করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের ই-মেইলে রায়ের পিডিএফ কপি পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া প্রার্থীরা নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী নির্বাচন ভবন থেকে রায়ের হার্ডকপিও সংগ্রহ করতে পারবেন। ১০ থেকে ১২ জানুয়ারির রায়গুলো ১২ জানুয়ারি, ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারির রায় ১৫ জানুয়ারি এবং শেষ পর্বের রায়গুলো ১৮ জানুয়ারি বিতরণ করা হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে নির্বাচন কমিশন প্রশাসনের সর্বস্তরের সহযোগিতা কামনা করেছে। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন মনে করেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার এই ধাপটি নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রমাণের অন্যতম বড় সুযোগ।

