রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকায় এক গৃহকর্ত্রীর সরলতার সুযোগ নিয়ে গৃহকর্মী সেজে বাসায় ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনার সাথে জড়িত মূল অভিযুক্ত নারী এবং চুরির মালামাল কেনাবেচায় সহায়তাকারী এক জুয়েলারি কারিগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশি অভিযানে ঢাকার আদাবর এলাকার একটি জুয়েলারি দোকান থেকে লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ওই বাসা থেকে প্রায় ৯ ভরি স্বর্ণ এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ চুরির ঘটনা ঘটে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন শিউলী বেগম ওরফে লাকী এবং মো. নাদিম হোসেন। গতকাল শনিবার দুপুরে কাফরুল থানা এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের হেফাজতে নেয় পল্লবী থানা পুলিশ। আজ রোববার বিকেলে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশি তদন্ত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৬ অক্টোবর। ভুক্তভোগী গৃহকর্ত্রী সাবিহা মাহবুবা ওই দিন বিকেলে অভিযুক্ত শিউলী বেগমের সাথে কথা বলে তাকে নিজের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন। নিয়োগের পর ৮ অক্টোবর সকাল ৭টায় শিউলী কাজে যোগ দেয়। সেদিন সকাল ৯টার দিকে সাবিহা তার কর্মস্থলে চলে গেলে বাসায় কেবল তার বৃদ্ধা মা, স্বামী ও সন্তান ছিলেন। রাত ৮টার দিকে সাবিহা কর্মস্থল থেকে ফিরে এসে এক বীভৎস পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। তিনি দেখেন তার মা অচেতন অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন এবং ঘরের ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারগুলো লন্ডভন্ড হয়ে খোলা পড়ে আছে।
পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, ড্রয়ারে রাখা প্রায় ১৮ লাখ টাকা মূল্যের ৯ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা গায়েব হয়ে গেছে। সাবিহার মা জ্ঞান ফেরার পর জানান, কাজের মেয়ে শিউলী তাকে জোর করে পেঁপে ভাজি খাইয়েছিল, যা খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, খাবারের সাথে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে বৃদ্ধাকে অচেতন করে এই দুর্ধর্ষ চুরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। এই ঘটনায় সাবিহা মাহবুবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজু হওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পল্লবী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল কাফরুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিউলী বেগমকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিউলী নিজের অপরাধ স্বীকার করে এবং জানায় যে, চুরিকৃত স্বর্ণালংকার সে আদাবর কাঁচাবাজার সংলগ্ন ‘প্রভা জুয়েলার্স’ নামক একটি দোকানে বিক্রি করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই দোকানে অভিযান চালিয়ে ৮ ভরি ১ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে এবং চোরাই মাল কেনার অপরাধে দোকানের কারিগর মো. নাদিম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত শিউলী বেগম একজন পেশাদার অপরাধী। সে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় নাম-পরিচয় পরিবর্তন করে এবং গৃহকর্মী সেজে একই কৌশলে অসংখ্য চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত উভয় আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পর পুলিশ নগরবাসীকে গৃহকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই এবং নিকটস্থ থানায় তথ্য প্রদানের মাধ্যমে অধিকতর সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

