সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক ও সহমর্মিতা প্রকাশ করতে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। প্রিয় নেত্রীর জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা পৌঁছানোর পর এটি ছিল কোনো বিদেশি শীর্ষ প্রতিনিধির সঙ্গে তারেক রহমানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক কূটনৈতিক বৈঠক।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর কন্যা জাইমা রহমান এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক পাকিস্তানের সরকার এবং জনগণের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল বাংলাদেশের একজন মহীয়সী নেত্রী ছিলেন না, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বৈঠককালে পাকিস্তানের স্পিকার বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ত্যাগের কথা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বেগম জিয়ার প্রয়াণে দক্ষিণ এশিয়া একজন অভিজ্ঞ ও সাহসী রাজনৈতিক অভিভাবককে হারালো। শোকাতুর তারেক রহমানকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের জনগণের পাশে রয়েছে। পারিবারিক এই শোকের মুহূর্তে বিদেশি মেহমানদের এমন সংহতি রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
এর আগে, বুধবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় অবতরণ করেন সরদার আইয়াজ সাদিক। তিনি বিকেলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় সশরীরে অংশ নেন এবং মরহুমার কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ৫ আগস্টের পর থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের যে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে, পাকিস্তানের স্পিকারের এই সফর তাকে আরও বেগবান করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
সাক্ষাৎ শেষে তারেক রহমান পাকিস্তানের সরকার ও স্পিকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়া সবসময় প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পক্ষপাতী ছিলেন। জানাজা শেষে পাকিস্তানের স্পিকারসহ অন্যান্য বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি শোকাতুর নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের আন্তর্জাতিক সংহতির বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিদেশি এই প্রতিনিধিদের উপস্থিতিকে বাংলাদেশের রাজনীতির এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ এই প্রতিনিধির ঢাকা সফর এবং তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে কথা বলা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

