বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন কূটনীতির অধ্যায় সূচিত হলো আজ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শোকবার্তা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই শোকবার্তা হস্তান্তর করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর।
বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় অবতরণের পর ড. জয়শঙ্কর সরাসরি সংসদ ভবন এলাকায় যান। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাতে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দেশটির জনগণের পক্ষ থেকে পাঠানো এই বার্তাটি তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন। বিএনপি’র ভেরিফাইড ফেসবুক পেজের এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘গণতন্ত্রের মা’ এবং ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের প্রতি ভারত সরকার এই বার্তার মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের কাছে সরাসরি ভারত সরকারের এই শোকবার্তা হস্তান্তর একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটিই ভারত সরকারের কোনো শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রীর প্রথম ঢাকা সফর। শোকের এই মুহূর্তে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এই সাক্ষাৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলানোর ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করতে পারে। শোকবার্তায় বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অন্যতম কাণ্ডারি হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে।
শোকবার্তা হস্তান্তরকালে ড. জয়শঙ্কর তারেক রহমানের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগে থেকেই জানিয়েছিল যে, তারা বাংলাদেশের একজন অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করতে চায়। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জয়শঙ্কর কেবল জানাজায় অংশ নেননি, বরং বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি সৌজন্য বিনিময় করে প্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করেছেন।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ড. জয়শঙ্করের এই সফরটি ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টার ঝটিকা সফর। জানাজা ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বিকেলেই তাঁর দিল্লিতে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে তাঁর এই সফর এবং তারেক রহমানের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রিয় নেত্রীকে হারানোর শোকের দিনে আন্তর্জাতিক এই সংহতি বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

