বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে এবং পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করতে ঢাকায় পৌঁছেছেন দেশটির জাতীয় পরিষদের (পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ) স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে তিনি একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনের কাউন্সেলর (প্রেস) মোহাম্মদ ফসিহ উল্লাহ খান তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। বিমানবন্দরে তাঁকে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্বাগত জানান।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বিশেষ নির্দেশে বেগম খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন স্পিকার আইয়াজ সাদিক। এর আগে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের এই জানাজায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে তাঁর পরিবর্তে স্পিকারকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাতে ইসহাক দার নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গভীর শোক প্রকাশ করে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের একজন জনহিতৈষী নেত্রী ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করা এক সাহসী রাজনীতিক হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্পিকার আইয়াজ সাদিক সেই শোকবার্তাই মরহুমার পরিবার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে পৌঁছে দেবেন। পাকিস্তানের পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফর দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং বাংলাদেশের একজন জাতীয় নেত্রীর প্রতি বিনম্র সম্মান জানানোরই অংশ।
আজ দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। স্পিকার আইয়াজ সাদিক জানাজায় অংশ নিয়ে মরহুমার কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্য থেকে পাকিস্তানই প্রথম উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিল। এছাড়াও ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও আজ এই জানাজায় উপস্থিত থাকছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এসব দেশের প্রতিনিধিবর্গের ঢাকায় এই মিলনমেলা বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণের পর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে এবং আজ দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষিত হয়েছে। পাকিস্তানের স্পিকারের এই সফরকে ঘিরে বিমানবন্দর থেকে জানাজা স্থল পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জানাজা শেষে স্পিকার আইয়াজ সাদিক বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানানোর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বিদেশি মেহমানদের উপস্থিতি শোকাতুর নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর সংহতির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

