বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটিই ভারত সরকারের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ঢাকা সফর, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক শোকবার্তায় বেগম জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে তাঁর ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মূলত ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে এই শোক ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দিতেই প্রধানমন্ত্রী মোদির বিশেষ দূত হিসেবে জয়শঙ্কর ঢাকা সফরে এসেছেন। বিমানবন্দরে তাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণব ভার্মা স্বাগত জানান।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে সরাসরি জানাজা স্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দুপুরে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিতব্য সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জানাজায় অংশ নেবেন এবং মরহুমার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। জয়শঙ্করের এই সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক শোক সফর নয়, বরং এটি প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক শীতলতা কাটিয়ে সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জয়শঙ্করের এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। সেখানে জানানো হয়, ভারত তার দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। ভারতের বিশ্বাস, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও ঐতিহ্য আগামী দিনেও দুই দেশের অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে। এই সফরে জয়শঙ্করের পাশাপাশি ভারতের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও তাঁর সঙ্গে এসেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোও শোক প্রকাশ করেছে। জয়শঙ্করের পাশাপাশি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূতসহ বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি আজকের এই শেষ বিদায়ে অংশ নিতে ঢাকায় অবস্থান করছেন। আন্তর্জাতিক এই প্রতিনিধিদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, বেগম খালেদা জিয়া কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং আঞ্চলিক রাজনীতিতেও একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়ার এই প্রয়াণকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঝটিকা সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, শোকের এই মুহূর্তে জয়শঙ্করের উপস্থিতি সেই দূরত্ব কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আজ বিকেলেই তাঁর দিল্লিতে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

