চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর আদায়ে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, “নগরীর সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলোকে অবশ্যই তাদের ন্যায্য রাজস্ব বা হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে।”
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন। সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সামছুল হক, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শওকত ওসমান এবং সহকারী সচিব এস এম হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, অতীতে অযৌক্তিকভাবে নির্ধারিত অনেক গৃহকর বর্তমানে ‘রিভিউ বোর্ড’-এর মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনা করা হলেও বাণিজ্যিক খাতের ক্ষেত্রে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর, রেলওয়ে, বিভিন্ন তেল কোম্পানি ও বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সিটি কর্পোরেশনের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাওনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে মেয়র বলেন, “যৌথ জরিপ অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের বছরে প্রায় ২৬৪ কোটি টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তারা দিচ্ছে মাত্র ৪৫ কোটি টাকা। বন্দরের ভারী যানবাহনের কারণে নগরীর সড়কগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা সংস্কারে প্রতি বছর চসিককে ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। অথচ বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধে অনীহা দেখাচ্ছে। এই বিষয়ে এখন থেকে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
বিগত প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে মেয়র জানান, ইতোমধ্যে রাজস্ব বিভাগে তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে দুটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় জড়িত দুই কর কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিনজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি খোদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
মেয়র শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে বর্তমানে শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ৯৬ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করে চসিককে একটি আর্থিকভাবে স্বনির্ভর ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই বর্তমান নগর প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
মতবিনিময় সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

