শনিবার বিকেলে ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্স ও ফেয়ার ইলেকশন অ্যাডভাইজরি কমিটির যৌথ উদ্যোগে ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মাহমুদুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণের সত্যিকারের অভিপ্রায় ফুটে উঠবে। আর জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি শক্তিশালী সরকার থাকলে বাংলাদেশে ভারতের একপাক্ষিক আধিপত্য বা অপকর্মগুলো চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। এই কারণেই ভারত চায় বাংলাদেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করুক, যা তাদের কৌশলগত সুবিধার জন্য সহায়ক।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে অনেকেই তার এই অবস্থানকে ভুল বুঝেছিলেন। কিন্তু তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য ভারতের ‘আগ্রাসন’ মোকাবিলা করা বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারত বর্তমানে চাপের মুখে থাকলেও, বাংলাদেশে অস্থিরতা জিইয়ে রেখে তারা সেই চাপ সামলানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। সরকারকে ‘বয়স্ক হলেও অনভিজ্ঞ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, “একজন নেতার প্রধান কাজ হলো সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া। সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্তহীনতা কোনো সমাধান নয়। এই সরকার যেন ‘সময়ই সব ক্ষত সারিয়ে দেবে’—এমন একটি মনোভাব নিয়ে বসে আছে, যা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কাম্য নয়।”
মাহমুদুর রহমান আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, সরকারের ধীরগতির কারণে নির্বাচন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মতো বিশাল ত্যাগের পরও দলগুলো তাদের পুরনো সংকীর্ণ চিন্তা থেকে বের হতে পারেনি, যা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে মাহমুদুর রহমান নাগরিক সমাজকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি প্রস্তাব করেন যে, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে একটি ‘সিটিজেন চার্টার’ বা নাগরিক অঙ্গীকারনামা আদায় করতে হবে। যেখানে দলগুলো স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দেবে যে, তারা নির্বাচনে কোনো ধরনের জাল ভোট দেবে না বা কেন্দ্র দখল করবে না।
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে অদূর ভবিষ্যতে তাদেরও আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে।”
উক্ত গোলটেবিল বৈঠকে সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকার, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. খ. ম কবিরুল ইসলাম, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

