দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর পূর্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত ধাপে পা রেখেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোটাধিকার প্রয়োগের লক্ষ্যে তিনি ইতোমধ্যে অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার আবেদন সম্পন্ন করেছেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) ও চোখের আইরিশ স্ক্যান দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তারেক রহমান ও তাঁর কন্যা জায়মা রহমান উভয়েই ঢাকা-১৭ আসনের গুলশান এলাকার ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করেছেন। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে নির্বাচন কমিশনের অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে তাঁরা এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেন। মহাপরিচালক আরও স্পষ্ট করেন যে, নিবন্ধনের বায়োমেট্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরবর্তী ৫ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনআইডি নম্বর জেনারেট হবে।
প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করে এনআইডি ডিজি বলেন, “তিনি অনলাইনে ফরম পূরণ করেছেন। এখন সশরীরে উপস্থিত হয়ে আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি প্রদানের মাধ্যমে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। এরপর আমাদের সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর তথ্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে যাচাই করবে। তথ্য সঠিক থাকলে এবং অন্য কোনো তথ্যের সাথে সাংঘর্ষিক না হলে দ্রুততম সময়ে অর্থাৎ সর্বনিম্ন ৫ ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর এনআইডি প্রস্তুত হয়ে যাবে।” তিনি আরও জানান, এনআইডি নম্বর জেনারেট হওয়ার সাথে সাথে তাঁর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটি খুদে বার্তা (এসএমএস) চলে যাবে, যা ব্যবহার করে তিনি অনলাইনেই পরিচয়পত্রটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এ ছাড়াও ইসি থেকে চাইলে তিনি স্মার্ট কার্ড বা লেমিনেটেড এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করার সুযোগ পাবেন।
তারেক রহমানের এই আগমনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ নাগরিকদের মতো তাঁর ক্ষেত্রেও আইনের সকল প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী যোগ্য যে কোনো নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করার আইনি এখতিয়ার কমিশনের রয়েছে। তারেক রহমানের এই পদক্ষেপটি তাঁর নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে তাঁর অংশগ্রহণের বিষয়টি এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।
বিকেল নাগাদ এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তারেক রহমান তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন ও পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রযুক্তিবান্ধব এই আবেদন প্রক্রিয়া এবং দ্রুততম সময়ে এনআইডি প্রাপ্তির বিষয়টি দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

