রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় দিনের আলোয় এক মানবিক সাহায্য সংস্থার কর্মীকে (এনজিওকর্মী) ছুরিকাঘাত করে ২৫ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে ধোলাইপাড়ের মতো জনবহুল এলাকায় এই দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটেছে। এতে জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আহত নারীর নাম সাবিনা ইয়াসমিন (৩৫)। তিনি ‘মানবিক সাহায্য সংস্থা’ নামক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) ফিল্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত। কাজের সূত্রে বাইরে থাকাকালে তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হন।
জানা যায়, বুধবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে সাবিনা ইয়াসমিন অফিসের কাজ শেষে হেঁটে ফিরছিলেন। ধোলাইপাড় এলাকায় পৌঁছালে ওঁত পেতে থাকা ৩ থেকে ৪ জন ছিনতাইকারী হঠাৎ তাকে আক্রমণ করে। সাবিনার সহকর্মী ফাতেমা বেগমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছিনতাইকারীরা অত্যন্ত নৃশংসভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাবিনার ঘাড়ের পেছনে অন্তত চারটি আঘাত করে। আঘাতে তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন। এই সুযোগে ছিনতাইকারীরা তার কাছে থাকা বেতনের ২৫ হাজার টাকা এবং গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
সহকর্মীরা সাবিনা ইয়াসমিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে জরুরি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে তার চিকিৎসা চলছে। তার শারীরিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পুলিশ পরিদর্শক মো. ফারুক আরও জানান, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ইতোমধ্যে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং জড়িত ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
দিনের বেলায়, বিশেষ করে রাজধানীর প্রধান সড়ক সংলগ্ন এলাকায় একজন কর্মজীবী নারীকে এভাবে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এনজিওকর্মীরা প্রায়শই মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে নগদ অর্থ বহন করেন। এমন পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছেন এবং এই ধরনের অপরাধ দমনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

