দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর বড় ছেলে তারেক রহমানের দেশে ফেরার চূড়ান্ত খবরে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই সংবাদ শুনে দারুণ স্বস্তি ও মানসিক প্রশান্তি প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) থাকা অবস্থায় পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে এই খুশির সংবাদটি জানানো হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মা ও ছেলের এই পুনর্মিলন কেবল একটি পারিবারিক মিলন নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হতে যাচ্ছে।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, বুধবার সকালে তারেক রহমানের ফেরার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে শোনার পর খালেদা জিয়ার শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। কয়েক দিন আগেই তাঁর পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন তাঁকে এই আগমনের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে ছেলের দেশে ফেরার সংবাদটি পাওয়ার পর থেকে ম্যাডামের মধ্যে এক ধরনের মানসিক স্থিরতা দেখা দিচ্ছে, যা তাঁর দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রী লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে গত এক মাস ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরে গুরুতর ইনফেকশন থাকায় বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মেডিকেল বোর্ডের অন্যতম সদস্য ডা. জিয়াউল হক বলেন, “ম্যাডামের মানসিক অবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো। আমরা আশা করছি, এই মানসিক প্রশান্তি তাঁর শারীরিক প্যারামিটারগুলোকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে। তাঁর অবস্থা কিছুটা উন্নত হলেই আমরা তাঁকে সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছি।”
উল্লেখ্য যে, গত ২৭ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে সিসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। দেশি-বিদেশি ৩০ জন প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড সার্বক্ষণিকভাবে তাঁর স্বাস্থ্যের তদারকি করছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ১৭ বছর ধরে লন্ডনে নির্বাসিত থাকলেও নিয়মিত মায়ের স্বাস্থ্যের খবর নিয়েছেন এবং তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে বিদেশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন।
রাজনৈতিক কর্মসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে সরাসরি পূর্বাচলে আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনায় যোগ দিয়ে তিনি সোজা এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন তাঁর অসুস্থ মাকে দেখতে।
মা ও ছেলের এই দীর্ঘ ১৭ বছরের বিরহ ঘোচানোর মুহূর্তটি দেখতে দেশজুড়ে কোটি নেতাকর্মী এখন গভীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছেন। বিএনপি নেতাদের মতে, তারেক রহমানের এই ফেরা বেগম জিয়ার মানসিক শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, যা তাঁর চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় দাওয়াই হিসেবে কাজ করবে।

