পৌষের মাঝামাঝি সময়ে এসে প্রকৃতিতে শীতের রূপ আরও প্রখর হতে শুরু করেছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার সাথে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে দেশের উত্তর জনপদ ও নদীতীরবর্তী এলাকাগুলো। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার বার্তায় জানানো হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে বিদ্যমান মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপের প্রভাব উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির কারণে সারা দেশে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকলেও উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শীতের প্রকোপ জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে নদী অববাহিকা ও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় নৌ ও সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ বুধবার দেশের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দেখা দিলেও দেশের অন্যান্য স্থানে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা বিরাজ করবে। আজ রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বড়দিনের সকালেও একই চিত্র বজায় থাকবে। উত্তরাঞ্চলে কুয়াশার ঘনত্ব বেশি থাকায় দিনের শুরুতে সূর্যের দেখা মিলতে দেরি হতে পারে, যা কর্মজীবী মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ২৬ থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত নদী অববাহিকা এলাকায় কুয়াশার দাপট অব্যাহত থাকবে। দিনের বেলা আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকলেও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসের কারণে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও সিরাজগঞ্জের মতো এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যা চরাঞ্চল ও খোলা প্রান্তরে বসবাসরত প্রান্তিক মানুষের জন্য টিকে থাকার কঠিন লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
চিকিৎসকরা এই তীব্র শীতে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্নের পরামর্শ দিয়েছেন। ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডাজনিত কারণে সর্দি, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। এছাড়া ঘন কুয়াশার সময় মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য চালকদের অনুরোধ জানিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত না থাকলেও শীতের এই ধারা জানুয়ারি মাসের শুরু পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

