জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সক্রিয় যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতির খবর দিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত ‘ফয়সাল’ নামক ব্যক্তির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে পুলিশের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, “অভিযুক্ত ফয়সালের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে আমাদের কাছে বর্তমানে পিন-পয়েন্ট কোনো তথ্য নেই। তবে তাঁকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের বিশেষায়িত বাহিনী এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
একটি বিষয় আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশ ত্যাগ করেছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা তথ্য আমাদের ইমিগ্রেশন বা গোয়েন্দা রেকর্ডে নেই।” অনেক সময় অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে বা তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নিজেদের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হাদি হত্যাকাণ্ডকে শুরু থেকেই ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা এই মামলার প্রতিটি দিক অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা আমরা স্পেসিফিকভাবে নিশ্চিত করতে পারিনি। তবে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।”
একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম মামলার তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “প্রাথমিক পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ এবং ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে আমাদের ধারণা হচ্ছে, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড।
এখানে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যের ছাপ পাওয়া যায়নি। ঘটনার শুরু থেকেই ডিবির একাধিক টিম মাঠে রয়েছে এবং অন্যান্য সব এজেন্সির সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।” ডিবি প্রধান আরও যোগ করেন যে, এই স্পর্শকাতর মামলাটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সকল মোটিভ (উদ্দেশ্য) সামনে রেখেই তদন্ত এগিয়ে চলছে।
উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আবেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর সমাধিস্থল এবং মৃত্যুর কারণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। ইতোমধ্যে হাদিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না বলে জানান ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।

