দেশের অন্যতম শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এক বিশাল জাল উম্মোচনে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, চাঁদাবাজি এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সংস্থাটির তিন অতিরিক্ত পরিচালক এবং ছয় যুগ্ম পরিচালকসহ মোট ১৩ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে ১৩ জন দক্ষ দুদক কর্মকর্তাকে আলাদাভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম আজ সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যাঁদের বিরুদ্ধে দুদকের এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অতিরিক্ত পরিচালক পদমর্যাদার তিনজন হলেন— মো. আজিজুর রহমান, এম এস কে শাহীন এবং মোহাম্মদ জহীর উদ্দিন। যুগ্ম পরিচালক হিসেবে অনুসন্ধানের আওতায় এসেছেন— মো. ইসমাইল হোসেন, জি এম রাসেল রানা, এফ এম আকবর হোসেন, মো. নাজমুল হক, বদরুল আহমেদ ও শেখ শাফিনুল হক। এছাড়াও উপপরিচালক পদমর্যাদার চারজন কর্মকর্তা যথাক্রমে কামরুল হাসান, আমিনুল হক, শেখ খাইরুল বাসার এবং জহরলাল জয়ধরের বিরুদ্ধেও গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এই ১৩ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের মাধ্যমে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, তাঁরা মানিলন্ডারিং বা বিদেশে অর্থ পাচার, নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ এবং ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন উৎস থেকে চাঁদাবাজির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এছাড়া নিজেদের এবং তাঁদের স্ত্রীদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের পাহাড় গড়েছেন বলে দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের কাছে তথ্য রয়েছে।
এই অনুসন্ধান কার্যক্রমকে গতিশীল করতে কমিশনের পক্ষ থেকে উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক এবং উপ-সহকারী পরিচালক পদমর্যাদার চৌকস কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি এবং স্থাবর সম্পত্তির দলিলপত্র যাচাই-বাছাই করবেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতায় এনএসআই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই অনুসন্ধান শুরু হলো। উল্লেখ্য যে, একই দিনে সাবেক ডেপুটি স্পিকার টুকু পরিবার এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পরিবারের বিরুদ্ধেও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন নজিরবিহীন অনুসন্ধান কার্যক্রম প্রশাসনে এক শক্তিশালী সতর্কবার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

