সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাতবরণ করা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার শরীফ ওসমান হাদির শেষ ইচ্ছা ও পরিবারের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর এই নির্ভীক কলম সৈনিক ও বিপ্লবী নেতাকে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করার সম্মান প্রদান করা হচ্ছে।
আজ সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে শহীদ হাদির মরদেহ বহনকারী কফিনটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মরদেহটি বারডেমের হিমঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ রাতেই মরদেহ দেখার কোনো সুযোগ থাকছে না। সংগঠনের কর্মীরা বিমানবন্দর থেকে সরাসরি শাহবাগে সমবেত হয়ে তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। হিমঘরে মরদেহ সংরক্ষণের পর আগামীকাল শনিবার সকালে এক শোক মিছিলের মাধ্যমে তার কফিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে আনা হবে এবং সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
পরবর্তী কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল ২০ ডিসেম্বর (শনিবার) বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে শহীদ ওসমান হাদির দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই জানাজায় বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জানাজা শেষে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাতীয় কবির সমাধির পাশেই তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। জুলাই বিপ্লবের পর কোনো তরুণ ছাত্রনেতাকে এমন বিরল সম্মানের সাথে সমাহিত করার ঘটনা এটিই প্রথম।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে দেশের সকল ছাত্র-জনতার প্রতি শৃঙ্খলার সাথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শহীদ ওসমান হাদির স্বপ্ন ছিল একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বাংলাদেশ। কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী যেন এই আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে সহিংসতা বা অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।” একই সাথে হাদির আদর্শকে ধারণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বিচার দাবি করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে নির্বাচনী প্রচারণাকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হওয়া হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। মাথায় গুলিবিদ্ধ এই সাহসী নেতার মৃত্যু সংবাদে দেশজুড়ে যে শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে আগামীকাল সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। হাদির চিরবিদায়ের এই লগ্নটি যেন দেশবাসীর কাছে জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের এক নতুন প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামীকাল মানিক মিয়া এভিনিউতে হতে যাওয়া জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশপথে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের প্রিয় নেতার বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।

