সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরবিদায় নেওয়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও লড়াকু নেতা শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ আগামীকাল শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দেশে আনা হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক এবং ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের (এনএইচএ) সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে এক নৃশংস সন্ত্রাসী হামলায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা ওসমান হাদিকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। রাত ৯টা ৪৪ মিনিটে হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় লেখা হয়, “ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মহান বিপ্লবী ওসমান হাদিকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।” একইসাথে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকেও তাদের এই শীর্ষ নেতার প্রয়াণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তার এই প্রস্থানকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনের জন্য এক বিশাল নক্ষত্রের পতন হিসেবে দেখছেন তার সহযোদ্ধারা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর), যা ছিল জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন। ওইদিন দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়ক দিয়ে রিকশাযোগে যাচ্ছিলেন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি চলন্ত মোটরসাইকেলে করে আসা দুই দুর্বৃত্ত হাদির রিকশার গতিরোধ করে এবং অত্যন্ত কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, একটি বুলেট তার মাথার ডান দিক দিয়ে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে, তবে গুলির কিছু অংশ তার মস্তিষ্কের গভীরে রয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার আশায় পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে প্রথমে এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং সবশেষ গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার দুপুরে হাদির মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে তার মরদেহ শহীদ মিনারে কিংবা ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে তার জানাজা ও দাফনের স্থান সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
শরিফ ওসমান হাদি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে তরুণ প্রজন্মের আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনার এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তার অকাল মৃত্যুতে দেশব্যাপী তার অনুসারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দেশের এক উদীয়মান নেতাকে এভাবে হত্যার ঘটনাটি সাধারণ নাগরিকদের মনে গভীর নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

