ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর সাম্প্রতিক বর্বরোচিত হামলার তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, হেলমেট এবং অপরাধ লুকাতে ব্যবহৃত একটি ভুয়া নম্বর প্লেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ ডিসেম্বর রোববার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন পশ্চিম আগারগাঁওয়ের বনলতা আবাসিক এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে বনলতা আবাসিক এলাকার একটি ভবনের নিচতলার পার্কিং থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও চালকের হেলমেটটি জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে নিবিড় তল্লাশি চালিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি ম্যানহোলের ভেতর থেকে অপরাধীদের ফেলে যাওয়া ভুয়া নম্বর প্লেটটি উদ্ধার করা হয়।
ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, হামলার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা গেছে, হামলাকারীরা সুপরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পরিবর্তন করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। প্রযুক্তির সহায়তায় এবং মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুততম সময়ে এই আলামতগুলো শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে মোটরসাইকেলটির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে। পুলিশি অনুসন্ধানে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটি এ পর্যন্ত মোট আটবার হাতবদল হয়েছে। মোটরসাইকেলটির প্রথম মালিক ছিলেন আব্দুর রহমান নামক এক ব্যক্তি। এরপর বিভিন্ন সময়ে শহিদুল, রাসেল, ওবায়দুল ইসলাম, আনারুল এবং শুভসহ একাধিক ব্যক্তির কাছে এটি বিক্রি করা হয়। সর্বশেষ এই হামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সালের সহযোগী মো. কবিরের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মাইনুদ্দিন ইসলামের নামে মোটরসাইকেলটি কেনা হয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, অপরাধীদের পরিচয় গোপন রাখতেই এভাবে বারবার মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে।
উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেল, হেলমেট ও ভুয়া নম্বর প্লেটটি বর্তমানে অধিকতর তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই আলামতগুলো মামলার মূল হোতাদের গ্রেপ্তার এবং আদালতে অপরাধীদের দোষ প্রমাণে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি বর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন সরব রয়েছে। পুলিশ এই ষড়যন্ত্রের শেকড় খুঁজে বের করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেছে।

