ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদের (৩৭) স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, তার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ (সামিয়ার ভাই) এবং অপর সহযোগী মারিয়া আক্তার লিমা—এই তিনজনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে আসামিদের এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত এবং দুষ্কর্মের সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
হামলার কারণ: এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তৎকালীন সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং হত্যা-গুমের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ওসমান হাদি ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গঠন করে এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বক্তব্য দেওয়ায় তিনি এই নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরোধিতার মুখে পড়েন ও হত্যার হুমকি পান।
নির্বাচনী কার্যক্রম: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছিলেন।
হামলার দিন: গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে তাকে বহনকারী অটোরিকশায় মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়।
আহত অবস্থা: গুলিবিদ্ধ হয়ে শরিফ ওসমান হাদি মাথা ও ডান কানের নিচে গুরুতর আহত হন। তিনি বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনাক্তকরণ: সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে হেলমেট পরিহিত দুই সন্ত্রাসীর মধ্যে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদকে হাদির ভাই ওমর বিন হাদি ও অন্যান্য সহকর্মীরা শনাক্ত করেন।
উদ্দেশ্য: এজাহারে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা, প্রার্থীদের মনোবল দুর্বল করা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছিল। ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়।
তদন্তকারী সংস্থা এখন রিমান্ডে নিয়ে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত মূল ষড়যন্ত্রকারী ও সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করবে।

