দেশের সীমান্তজুড়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা ও উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে আকস্মিকভাবে শত শতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। রাতের অন্ধকার কিংবা ভোরের কুয়াশাকে কাজে লাগিয়ে দেশের সাতটি জেলার সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে এই অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো হয়।
তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নজরদারি এবং স্থানীয় সীমান্তবাসীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় বাহিনীর সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। বিএসএফের পুশইনের শিকার এই ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে। বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে কোথাও কোথাও তারা দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। আবার কোথাও তাদের জোরপূর্বক ভারতের ভেতরেই ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।
সীমান্তের এই আকস্মিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, লালমনিরহাট, মেহেরপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও শেরপুর জেলায়। ভারতের মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন এসব সীমান্ত এলাকায় এখন বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো মূল্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পুরো সীমান্তজুড়ে জারি রয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই দিনের রুদ্ধশ্বাস নাটক ও বিএসএফের পিছুটান
সবচেয়ে বড় পুশইনের ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে ২০৩/৬-আর আন্তর্জাতিক পিলারের কাছে একদল মানুষকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের তাড়া খেয়ে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬টি শিশুসহ মোট ২৮ জন সীমান্ত রেখার ওপর এসে দাঁড়ায়।
খবর পেয়ে টহলরত বিজিবি সদস্যরা দ্রুত সেখানে অবস্থান নেন এবং তাদের বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঢুকতে বাধা দেন। ফলে ওই ২৮ জন হতভাগ্য মানুষ দুই দেশের মধ্যবর্তী নো-ম্যান্সল্যান্ড বা শূন্যরেখায় আটকা পড়েন। খোলা আকাশের নিচে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে কেটে যায় তাদের দুটি দিন।
এই সংকট সমাধানের জন্য বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে দুই দফা জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ভারতীয় পক্ষ তাদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানালে কোনো সমাধান আসেনি। অবশেষে প্রায় দুই দিন শূন্যরেখায় অবরুদ্ধ থাকার পর শনিবার (৬ জুন) সকালে বিএসএফ তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “গতকাল রাত পর্যন্ত তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছিল। কিন্তু আজ সকাল থেকে তাদের আর সেখানে দেখা যায়নি। আমাদের গোয়েন্দা সূত্র এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে।”
নওগাঁ সীমান্তে ১৯ ঘণ্টার অবরুদ্ধ দশা ও কান্নার রোল
অনুরূপ এক নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ২৩৮/এমপি পিলারের কাছ দিয়ে ১৭ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির কড়া পাহারার কারণে তারা সীমান্ত পার হতে পারেনি।
দিনভর নো-ম্যান্সল্যান্ডের কড়া রোদে পুড়ে এবং রাতে মশার কামড় সহ্য করে কাটানো এই মানুষদের করুণ দৃশ্য স্থানীয়দের কাঁদিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক মাহবুব আলম বলেন, “আমরা যখন মাঠে কাজ করছিলাম, তখন দেখেছি বিজিবি সদস্যরা তাদের পাহারা দিয়ে রাখছে। রাত ১১টার দিকেও তারা ওখানেই ছিল। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদের জোর করে টেনেহিঁচড়ে ভারতের ভেতরে নিয়ে যায়।”
মাহবুব আলম আরও জানান, ওই ১৭ জন মানুষ বিএসএফের সঙ্গে ফিরে যেতে চাচ্ছিলেন না। তাদের জোর করে নিয়ে যাওয়ার সময় সীমান্তে নারীদের কান্নার রোল ওঠে। তবে দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এমন আপসহীন ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেন এই সীমান্তবাসী।
নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই আমরা সীমান্তে টহল জোরদার করি। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে তাদের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে দেওয়া হয়েছিল। তবে সন্ধ্যার পর আমাদের অবস্থান আরও কঠোর করা হয়।”
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুম আরও জানান, রাত ১টার দিকে ভারতীয় অংশের সব সার্চলাইট বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। রাতের আঁধারকে কাজে লাগিয়ে পুশইনের চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার পর বিএসএফ তাদের ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই সীমান্তে কড়া নজরদারি চালু রয়েছে।
লালমনিরহাটের পাঁচ সীমান্তে মধ্যরাতের অন্ধকারের খেলা
শুক্রবার ভোররাতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার অন্তত পাঁচটি সীমান্ত পয়েন্টে একযোগে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। বিএসএফের এই সমন্বিত তৎপরতার খবর পেয়ে ঘুম ভেঙে যায় সীমান্তসংলগ্ন গ্রামবাসীর। তারা লাঠিসোটা নিয়ে বিজিবির সঙ্গে প্রতিরোধ লাইনে দাঁড়িয়ে যান।
দিনভর চলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। ৩৩ জন মানুষকে সীমান্তে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে ওপার থেকে চাপ দেওয়া হতে থাকে। কিন্তু বিজিবি ও গ্রামবাসীদের সম্মিলিত বাধার মুখে এক ইঞ্চি ভূখণ্ডেও পা রাখতে পারেনি অনুপ্রবেশকারীরা।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, দিনভর ব্যর্থ চেষ্টার পর রাতের আঁধারে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের হাইভোল্টেজ লাইটগুলো নিভিয়ে দেয়। এরপর তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করা মানুষদের নিজেদের ভূখণ্ডের ভেতরের দিকে সরিয়ে নিয়ে যায়। যেকোনো ধরনের পুশইন ঠেকাতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
মেহেরপুরে কাঁটাতার কেটে পুশইনের চেষ্টা ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধ
শনিবার ভোরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কৌশল অবলম্বন করে বিএসএফ। ১৪০/৫ এস আন্তর্জাতিক পিলারের কাছে ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়াবিন্যাসের একটি অংশ কেটে বা খুলে ফেলা হয়। এরপর সেখান দিয়ে ৬ জন মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে তারা।
কিন্তু ভোরের আলো ফোটার আগেই স্থানীয় গ্রামবাসী বিষয়টি টের পেয়ে যান। তারা চিৎকার করে বিজিবি ক্যাম্পে খবর দেন এবং নিজেরা গিয়ে অনুপ্রবেশের মুখে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে বিজিবি জোয়ানরা এসে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন মনে করিয়ে দিয়ে কড়া অবস্থান নেন।
তেঁতুলবাড়ীয়া বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে বিএসএফকে বারবার আহ্বান জানিয়েছি যাতে তারা তাদের মানুষদের ফিরিয়ে নেয়। আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছি, আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ছাড়া কোনো ধরনের পুশইন বাংলাদেশ মেনে নেবে না।”
পঞ্চগড়ে পতাকা বৈঠকের জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন
পঞ্চগড় সদর উপজেলার দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্তে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার ভোরে ১০ জন নারী ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির বাধায় তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঢুকতে না পেরে ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এই সংকটের কোনো সুরাহা হয়নি।
এই অনুপ্রবেশের ঘটনাটি নিয়ে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিকবার ফ্ল্যাগ মিটিং বা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা বিষয়টির কোনো আইনি সমাধান করতে চাইছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আমি বিএসএফ কমান্ডারদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, যদি কোনো মানুষ ভারতের অভ্যন্তরে থাকে, তবে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নিয়ম মেনে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের (আইসিপি) মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।”
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম আরও যোগ করেন, “রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পার করিয়ে এভাবে নো-ম্যান্সল্যান্ডে ফেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি তারা বাংলাদেশের নাগরিকও হয়ে থাকে, তবে তার জন্য নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। রাতের অন্ধকারে এমন পুশইন বাংলাদেশ কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না।”
ঠাকুরগাঁও ও শেরপুরে বিজিবির সফল অপারেশন ও মাইকিং
শনিবার ভোররাতে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের আরেকটি চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বিজিবি। দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দায়িত্ব পালনকালে বিজিবি সদস্যরা ওপারে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে সতর্ক অবস্থান নেন।
বিজিবির এই কঠোর ও অনড় অবস্থানের মুখে ওই ১১ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। বর্তমানে তারা ওপারেই বিএসএফের নজরদারিতে রয়েছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বদা দায়িত্বশীল, পেশাদার এবং তৎপর রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন এলাকা দিয়ে এক অভিনব উপায়ে পুশইনের পরিকল্পনা করেছিল বিএসএফ। শুক্রবার জুমার নামাজের সময়, যখন সীমান্তে লোক চলাচল কম থাকে, তখন ৫ থেকে ৬ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত পিলার ১১১৮-এর কাছাকাছি শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ গজ ভেতরে ভারতের চেরাংপাড়া এলাকায় ওই ব্যক্তিদের কয়েকদিন ধরে জড়ো করে রাখা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নিয়ে আসা এসব ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইন করার ছক কষেছিল বিএসএফ।
তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত সতর্কতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। এই ঘটনার পর ৩৯ বিজিবির সব বিওপিতে জনবল দ্বিগুণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য সব পুশইন পয়েন্টগুলোতে ২৪ ঘণ্টা লাইভ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মাইকিং করে বহিরাগত দেখলেই বিজিবিকে জানানোর জন্য জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নুরুল আমিন বায়েজীদ বলেন, “ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমানা রক্ষায় এবং যেকোনো অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে মাদক, চোরাচালান এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন ও গভীর উদ্বেগ
সীমান্ত বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন এবং দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিককে অন্য দেশে ফেরত পাঠাতে হলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও রাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক চ্যানেলের সাহায্য নিতে হয়। কিন্তু বিএসএফ যেভাবে দেশের সাতটি পয়েন্ট দিয়ে রাতের আঁধারে জোরপূর্বক মানুষকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন।
বিজিবির সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে পুশইন করার কোনো প্রচেষ্টা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণ করা হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। প্রতিটি সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

