ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ‘ইনকিলাব মঞ্চের’ মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী অঙ্গীকার করেছেন, হামলাকারীরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর, ২০২৫) বিকেলে রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএমপি কমিশনার এই ঘোষণা দেন।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী হামলার ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।”
এই গুরুতর হামলার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণকারীদের ধরতে বর্তমানে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই সন্ত্রাসীরা বা এর পেছনে যারা আছে, তারা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে বের করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।”
ডিএমপি কমিশনারের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে একাধিক বিশেষ দল কাজ করছে বলে জানা গেছে।
গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তদের গুলিতে শরিফ ওসমান হাদি গুরুতর আহত হন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর মাথায় গুলি লেগেছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। যদিও প্রাথমিক চিকিৎসায় তাঁর রক্তচাপ কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে, তবুও তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এই হামলার ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডিএমপি কমিশনারের এই জোরালো ঘোষণা নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা ও মামলার অগ্রগতির উপর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর নজর আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

