বর্ষা আসার আগেই সামান্য বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জনজীবন। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবর্তক মোড়সহ বেশ কিছু এলাকা হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, মাত্র ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই এমন নাকাল অবস্থা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই স্বল্প সময়ের বৃষ্টিতে নগরীর রহমতগঞ্জ, কাতালগঞ্জ এবং মুরাদপুর এলাকায়ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রবর্তক মোড়ের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। নর্দমা উপচে পড়া ময়লা পানি আর সড়কের কাদা একাকার হয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক অসহনীয় পরিবেশ। পথচারীদের অনেককে প্যান্ট গুটিয়ে জুতো হাতে নিয়ে সড়ক পার হতে দেখা যায়।
জলাবদ্ধতার কারণে প্রবর্তক এলাকায় স্বাভাবিক যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আনিসুজ্জামান দুলাল নামের এক ভুক্তভোগী পথচারী আক্ষেপ করে বলেন, “প্রবর্তক মোড় এখন ছোটখাটো একটা নদী হয়ে গেছে। হেঁটে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। রিকশাচালকরাও এই সুযোগে গলাকাটা ভাড়া আদায় করছেন। যে পথে ৩০ টাকা ভাড়া লাগত, এখন সেখানে ৫০-৬০ টাকা চাইছেন।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চললেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রবর্তক মোড় এলাকায় ড্রেনের সংস্কার কাজ চলায় পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাজপথ এখন খালের রূপ নিয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী জানান, প্রবর্তক মোড় ও এর আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। মেগা প্রকল্পের এই চলমান কাজের কারণেই সাময়িকভাবে পানি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে কর্তৃপক্ষের এমন গৎবাঁধা ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন নগরবাসী। তাদের মতে, সমন্বয়হীন উন্নয়ন আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনাই এই ভোগান্তির মূল কারণ। ১০ মিলিমিটারের মতো নগণ্য বৃষ্টিতে যদি শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো ডুবে যায়, তবে সামনে বর্ষা মৌসুমে ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম কী ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে, তা নিয়ে এখন থেকেই আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, নালা-নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতির কারণেই বৃষ্টির পানি সরার পথ পাচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই বর্ষায় চট্টগ্রামবাসীকে সীমাহীন ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে। বর্তমানে বৃষ্টির ধারা কমলেও জলজট পুরোপুরি নামতে আরও সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

