দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দীর্ঘদিনের সেশনজট থেকে মুক্ত করতে এক উচ্চাভিলাষী ও সমন্বিত পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা, যাতে আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে সম্পূর্ণ নতুন উদ্যমে শিক্ষাবর্ষ শুরু করা যায়।
রোববার দুপুরে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “আমরা চাই না শিক্ষার্থীরা একটি শিক্ষাবর্ষ থেকে অন্যটিতে যাওয়ার সময় কোনো দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকুক। সেশনজট কমাতে দুই বছরের কোর্স নির্ধারিত সময়ে শেষ করার ওপর আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”
বর্তমানে সারাদেশে চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, তা আশাব্যঞ্জক। তবে এই সুন্দর পরিবেশকে নষ্ট করতে একটি মহল তৎপর রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিশেষ করে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নফাঁসের যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সে বিষয়ে গণমাধ্যমকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ড. এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, “যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করা শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। একটি খবর প্রকাশের আগে তার সত্যতা যাচাই করা সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব। গুজব যারা ছড়াচ্ছে এবং যারা যাচাই ছাড়াই তা প্রচার করছে, উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে।”
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের প্রসঙ্গ। তিনি মনে করেন, ফেসবুক বা অন্যান্য মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে ভিন্ন হয়, যা কোমলমতি পরীক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপ কমাতে এবং সুষ্ঠু পরীক্ষা নিশ্চিতে অভিভাবক ও সমাজকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
এইচএসসি পরীক্ষার সেশনজট এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির বিলম্ব নিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করা হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে। এতে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হবে না।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদসহ শিক্ষা খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নীতিনির্ধারকদের এই নতুন পরিকল্পনা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের শিক্ষা ক্যালেন্ডারে একটি দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষামন্ত্রীর এই বার্তা স্পষ্ট—সরকার কেবল পরীক্ষা নিলেই ক্ষান্ত নয়, বরং একটি আধুনিক, গুজবমুক্ত এবং সেশনজটবিহীন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। এখন দেখার বিষয়, ডিসেম্বরের মধ্যে সব পরীক্ষা শেষের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শিক্ষা বোর্ডগুলো কতটুকু নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে পারে।

